হোসনি মুবারককে ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাছাড়া করেও স্বস্তির দেখা পায়নি মিশরবাসী। ক্ষমতায় এলো সামরিক সরকার। এরপর গেল সপ্তাহেও একদিনে গুলিতে নিহত হলো ৩০ জনের বেশি। সেই মিশরেই বাক-স্বাধীনতা না থাকার প্রতিবাদে ইন্টারনেটে নিজের বিবস্ত্র ছবি ছেড়েছিলেন এক তরুণী। তা নিয়ে আলোচনাও উঠেছিল তার দেশে।
সেই তরুণীর সমর্থনে এগিয়ে এলো আরেক দল তরুণী। না, তারা মিশরের নয়। নয় আমেরিকার অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকারীদের মতো কেউ। শুনে হয়তো আশ্চর্য হবেন, ওই তরুণীরা ইজরায়েলের। ২০ বছর বয়সী মিশরী তরুণী আলিয়া এলমাহদির তেজস্বীতায় তারাও উত্সাহিত। ইজরায়েলের ৪০ তরুণী একযোগে পরনের কাপড় খুলে তার সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন। তাদের হাতে ছিল শুধু একটি ব্যানার, যা দিয়ে নিজেদের ঢেকে রেখেছিলেন।
ব্যানারে আরবি ও হিব্রুতে যা লেখা তার অর্থ হলো: ‘আলিয়া এলমাহদিকে আমার শ্রদ্ধা। ইজরায়েলের বোনেরা।‘ আরো লেখা ছিল: ‘সীমাহীন ভালোবাসা’। এতে অংশ নেয়া তরুণীরা তাদের একজন টেম্পলার তার ফেইসবুক গ্রুপে লিখেছিলেন, “মেয়েরা, এসো ইজরায়েলি নারীদের অনিন্দ্য সেৌন্দর্য দেখার একটা সুযোগ দেই বিশ্বকে।“
ইহুদি, আরব, সমকামী- না কোনো কিছুকে পাত্তা না দিয়ে তারা শুধু সংহতিকে সবার ওপরে তুলে ধরতে এই প্রতিবাদ আয়োজন করেন।
তারা বলেন, “এসো বিশ্বকে দেখিয়ে দিই আমাদের আন্তর্জাতিক স্বাজাত্যবোধ আমাদের সরকারের ওপর নির্ভর করে না।“
নিজের বিবস্ত্র ছবি পোস্ট করার পর ২০ হাজারের বেশি নেতিবাচক মন্তব্য পান আলিয়া। সঙ্গে ছিল তাকে হত্যার হুমকিও। এইসব মিলিয়ে প্রতিবাদের প্রয়োজন অনুভব করেন ইজরায়েলি ওই ৪০ তরুণী। তিনি বলেন, “আমার মনে হলো কায়রোয় যখন কোনো স্বাধীনচেতা আলোকিত নারী মত প্রকাশের সুযোগ পান না তখন তার প্রতি আমাদের সংহতি জানানো উচিত।“
ইজরায়েলের সরকার সেদেশের শান্তিকামী সাধারণ মানুষের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেয় না বলেও মন্তব্য করেন টেম্পলার।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে দেয়া এলমাহদি বলেছেন, তিনি স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। সিএনএনকে তিনি বলেন, ইসলামের আওতায় নারী সবসময় ঘরে ব্যবহারের সামগ্রী হয়ে থাকবে।
newsually.com founded by polash datta & owned by Foundation for Information & Communication. licensed under creative commons license since 14th july 2011.